Blog

ইউটিউবিং

ইউটিউবে সর্বোচ্চ আয় করা ১০ জন ইউটিউবার

ইউটিউবের মাধ্যমে টাকা আয় করা যায়, মানুষ একসময় তা বিশ্বাস করতে চাইতো না। এখন সময় পাল্টিয়েছে। কোটি কোটি ভিডিও নির্মাতার তৈরি ভিডিও ক্লিপ রয়েছে ইউটিউবে। শিক্ষামূলক, ডকুমেন্টারি, নাটক, সিনেমা, গান, প্রাঙ্ক ভিডিও, রান্নাবান্না— এমন নানা ধরনের ৫০০ কোটি ভিডিও এক দিনেই দেখা হয় ইউটিউবে!

বিস্ময়ের শেষ এখানেই নয়। প্রতি মিনিটে ইউটিউবে আপলোড হয় ৩০০ ঘণ্টার ভিডিও। বর্তমানে বিশ্বে ১৫০ কোটি মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করেন। এই জনপ্রিয় মাধ্যমে ভিডিও নির্মাণ ও প্রচার যারা করেন, তাদের বলা হয় ইউটিউবার।

বিজনেস ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’ প্রতি বছর এমন ১০ জন ইউটিউবারের তালিকা প্রকাশ করে, যারা ইউটিউব থেকে সর্বোচ্চ আয় করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা বিষয় হলো, কোটিপতি অধিকাংশ ইউটিউবারই ভিডিও গেম নিয়ে রিভিউ করেন! আর অবাক করা একটি বিষয় হলো, ২/৩ জন বাদে এদের অধিকাংশই আমেরিকান!

২০১৯ সালের তালিকা অনুযায়ী সেরা ১০ ইউটিউবার নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

১০. বছরে ১১.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৯৮ কোটি টাকা আয় নিয়ে তালিকার ১০ নম্বরে অবস্থান করছেন ইভান ফোংয়ের ভানোস গেমিং (VanossGaming) নামক ইউটিউব চ্যানেলটি। এখানে বিভিন্ন ভিডিও গেমের হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে রিভিউ দেওয়া হয়। এই চ্যানেলে রয়েছে ২৫.৩ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার এবং চ্যানেলটি খোলা হয় ২০১১ সালে।

০৯. তালিকার ৯ নম্বরে অবস্থান করছে ডেনিয়েল মিডলটনের ডেনটিডিএম (DanTDM) নামক চ্যানেলটি। এখানেও ভিডিও গেমিং রিভিউ দেওয়া হয়। এই চ্যানেল থেকে তার আয় বছরে ১২ মিলিয়ন ডলার বা ১০২ কোটি টাকা। রয়েছে ২৪ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার এবং চ্যানেলটি খোলা হয়েছে ২০১২ সালে।

০৮. তালিকার ৮ নম্বরে রয়েছে ‘মার্কিপ্লাইয়ার’ নামক ইউটিউব চ্যানেলটি। এর মালিক মার্ক ফিশ্চবাচ। লেটস প্লে আর ভৌতিক কাণ্ডকারখানার সম্মিলন ঘটিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া রয়েছে বিনোদনমূলক অঙ্গভঙ্গি, নাটকীয়তা ও বাচনভঙ্গিনির্ভর ভিডিও। ভিডিও গেম ছেড়ে সেখানের দৃশ্যায়নের পেছনে থেকে তার কথাবার্তা ও অভিনয় দর্শকদের হাসির খোরাক জোগায়। মানুষকে হাসিয়ে তিনি আয় করেন বছরে ১৩ মিলিয়ন ডলার বা ১১০ কোটি টাকা! ইউটিউবের অন্যতম জনপ্রিয় এই চ্যানেলের যাত্রা শুরু ২০১২ সালে। তার চ্যানেলে বর্তমান সাবস্ক্রাইবার ২৭.৩ মিলিয়ন।

০৭. তার আসল নাম ফেলিক্স জেলবার্গ হলেও সবাই তাকে চিনে পিউডিপাই নামে। কারণ, ইউটিউবে তার চ্যানেলের নাম পিউডিপাই (pewdiepie)। মূলত ভিডিও গেমের বিভিন্ন দৃশ্য খেলতে খেলতে তিনি মজার ধারা বর্ণনা দেন। তার উচ্চারণ, মজার শব্দ-কথায় ভিডিওগুলো দারুণ হাস্যরসাত্মক হয়ে ওঠে। টানা কয়েক বছর ধরে তিনি ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি অর্থ আয়কারীর তালিকার শীর্ষস্থানে ছিলেন। ২০১০ সালে ইউটিউবে অ্যাকাউন্টটি  খোলেন তিনি, ২০১৩ সালে তার চ্যানেলটি ইউটিউবের ‘মোস্ট সাবস্ক্রাইব চ্যানেল’ নির্বাচিত হয়। এখনো সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা দিয়ে তার চ্যানেলটি দ্বিতীয়, রয়েছে ১০৭ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার!! গত বছর তিনি আয় করেন ১৩ মিলিয়ন ডলার বা ১১০ কোটি টাকা!

০৬. বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার বা ১১৯ কোটি টাকা আয় নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে আছে প্রেস্টন আর্সমেন্ট এর প্রেস্টন (Preston) চ্যানেলটি।

ফোর্বসের তালিকায় ২০১৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হন। তিনিও মূলত গেমিং রিভিউ নিয়ে কাজ করেন। তার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১৫.১ মিলিয়ন, চ্যানেলটি খোলা হয়েছে ২০১২ সালে।

০৫. মেকআপ টিউটোরিয়াল নিয়ে ভিডিও বানিয়ে বছরে ১৭ মিলিয়ন ডলার বা ১৪৫ কোটি টাকা আয় করেন জেফ্রি স্টার! তার চ্যানেলটির নামও জেফ্রি স্টার (Jeffree Star)। তিনি যেহেতু মেকআপ নিয়ে কাজ করেন, তাই অনেকেই ভাবতে পারেন তিনি একজন মহিলা! আসলে তিনি একজন পুরুষ! তার ইউটিউব চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার ১৭.১ মিলিয়ন এবং তিনি চ্যানেলটি খুলেছেন ২০০৬ সালে! সেরা ১০ জনের মধ্যে তার চ্যানেলটিই সবচেয়ে পুরনো।

০৪. দুই কমেডিয়ান বন্ধু মজার ছলে খাবার খেতে খেতে ভিডিও করেন আর সেটার রিভিউ দিয়ে আয় করে ফেলেন বছরে ১৭.৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৪৯ কোটি টাকা! এই দুই বন্ধুর একজনের নাম রেট, আরেকজনের নাম লিংক। তাদের চ্যানেলটির নামও রেট অ্যান্ড লিংক (Rhett and Link)। চ্যানেলটি দুই বন্ধু খুলেছিলেন ২০০৮ সালে, এবং এখন পর্যন্ত তাদের সাবস্ক্রাইবার ১৬.৭ মিলিয়ন।

০৩. সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে আনাসটাসিয়া রেডজিন্সকায়া। তার চ্যানেলটিও নিজের নামেই (Anastasia Radzinskaya)। রাশিয়ান এই পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে শিশু তার বাবার সাথে বিভিন্ন খেলাধুলার ভিডিও আপলোড করে আয় করে বছরে ১৮ মিলিয়ন ডলার বা ১৫৩ কোটি টাকা! চ্যানেলটি ২০১৬ সালে খোলা হয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত সাবস্ক্রাইবার ৬৩.৬ মিলিয়ন!

০২. তালিকায় দুই নম্বরে আছে পাঁচ বন্ধুর একটি চ্যানেল। চ্যানেলটির নাম ডুড পারফেক্ট (Dude perfect)। পাঁচ বন্ধু ২০০৯ সালে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলেন কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই। সেখানে তারা তাদের বিভিন্ন দুষ্টুমি, ভিন্নধর্মী খেলার ভিডিও আপলোড করতেন। এখন সে চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ৫৪ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে, আরে চ্যানেল থেকে তারা আয় করেন বছরে ২০ মিলিয়ন ডলার বা ১৭০ কোটি টাকা !

০১. বছরে ২৬ মিলিয়ন ডলার বা ২২১ কোটি টাকা আয় নিয়ে একদম সবার শীর্ষে অবস্থান করছে রায়ান কাজী নামের ৮ বছর বয়সী এক শিশু!!ইউটিউবে তার চ্যানেলটির নাম ছিল রায়ান টয়’স রিভিউ, পরবর্তীতে এটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রায়ানস ওয়ার্ল্ড (Rayans World)। রায়ানের কাজ নতুন নতুন খেলনা আনবক্সিং করে ভিডিও করার মাধ্যমে তা ইউটিউবে পোস্ট করা। মূলত বাচ্চারাই তার চ্যানেলের দর্শক! তার ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে ২৭ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার!

মাজহারুল ইসলাম

মাজহারুল ইসলাম ক্যারিয়ার স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন দক্ষ ভিডিওগ্রাফার। ভিডিও এবং ইউটিউবিং এর উপরে পরীক্ষা দিয়ে ইউটিউব থেকে সার্টিফিকেট প্রাপ্ত এই এক্সপার্ট এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের তরুণদেরকে ভিডিও মেকিং এ আন্তর্জাতিকমানের করে গড়ে তোলা এবং ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং বা ইউটিউবিং এর মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ করে দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *