Blog

ইউটিউবিং

ইউটিউবের জাদুঃ মাত্র ৮ বছর বয়সেই শতকোটি টাকার মালিক

বলা যায়, সময়টা এখন ইউটিউবের। আর এ সময়ের একজন ইউটিউব স্টার রায়ান কাজী নামের আট বছর বয়সী এক শিশু। ইউটিউবে তার চ্যানেলটির নাম রায়ান টয়’স রিভিউ। তার কাজ নতুন নতুন খেলনা আনবক্সিং করে ভিডিও করার মাধ্যমে তা ইউটিউবে পোস্ট করা। কেবল এ কাজ করেই ২০১৯ সালে সে আয় করেছে দুই কোটি ২৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুইশ কোটি টাকারও বেশি!! তার ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে ২৭ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার!

প্রভাবশালী বিজনেস ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’-এর ২০১৯ সালের হিসাবে, রায়ান সবচেয়ে বেশি আয় করা ইউটিউব স্টার। অথচ ২০১৫ সালেও রায়ানের অবস্থান ছিল আট নম্বরে। বুঝাই যাচ্ছে, সে কত দ্রুত উন্নতি করেছে! ২০১৫ সালে প্রথম ইউটিউবে রায়ানের ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত ইউটিউবে তার ভিডিওগুলো দেখা হয়েছে ২ হাজার কোটিবারের বেশি!

ইউটিউবে রায়ানের খেলনার রিভিউ দেওয়ার অঙ্গভঙ্গি আকর্ষণ করে সবাইকে। কখনো সে স্টার ওয়ার্সের হিরো, আবার কখনো সে হয়ে যায় স্পাইডারম্যানের সঙ্গী। ভয়ঙ্কর সব বিপদ থেকে উদ্ধার করে স্পাইডারম্যানকে। এমনকি ব্যাটম্যানের গাড়ি করেও ভিডিওতে ঘুরতে দেখা যায় রায়ানকে। আর এসব ভিডিওতে সঙ্গে থাকেন রায়ানের মা-বাবা। তারাও নানারকম মজাদার পোশাক পরে রায়ানের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করেন। আর বাচ্চারাও এই রায়ানের খেলা দেখে দারুণ মজা পায়। ফলে দিন দিন রায়ানের জনপ্রিয়তা বেড়েই যাচ্ছে। তার ভক্ত সংখ্যা সারা বিশ্বে কোটি কোটি। আর রায়ানের ব্যাংক ব্যালান্স দেখে ঈর্ষান্বিত হবে যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। আট বছরের রায়ান ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বের অনেক বড় বড় তারকাকেও।

রায়ানের ভিডিও আর তার খেলনা নিয়ে কেন বিশ্বজুড়ে বাচ্চাদের এত আগ্রহ, তা বুঝতে হলে আপনাকে শিশুর মতো করেই চিন্তা করতে হবে। রায়ান যখন তার খেলনাগুলো নিয়ে খেলতে বসে, অন্য শিশুরাও যেন তার মতো করে কল্পনার ডালি খুলে বসে; মিশে যায় রায়ানের খেলার সঙ্গে ভাবনার ছলে। আর এই ফাঁকে শিশুদের মা-বাবারা শিশুকে রায়ানের ভিডিও দেখিয়ে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে নেন!

ইউটিউবে ২০১৫ সালে রায়ানের প্রথম পোস্ট করা ভিডিওটি ছিল, প্লাস্টিকের ডিম ভেঙে সেখান থেকে খেলনা বের করা। কল্পনা করুন তো, কতবার এটি বিশ্বজুড়ে শিশুরা দেখেছে! একবার-দুইবার নয়, এক লাখ-দুই লাখবারও নয়, এমনকি এক কোটিবারও নয়। এই ভিডিওটি দেখা হয়েছে আশি কোটিবারের বেশি!! রায়ান তার চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করার মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ হয়ে যায়!

সমালোচকরা বলছেন, রায়ানের চতুর বাবা-মা আসলে শিশুপুত্রকে ব্যবহার করে একটি সফল ব্যবসা চালাচ্ছেন। এটা শিশু নির্যাতনের শামিল। কিন্তু তার মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমরা তো তার স্কুল রুটিনে কোনো ব্যাঘাত ঘটাচ্ছি না। ছুটির দিনেই এসব ভিডিও রেকর্ড করা হয়। আর যখন সে স্কুলে থাকে, তখন এগুলো এডিট করা হয়।” রায়ানের মা-বাবা মিডিয়ার সামনে আসতে চান না, এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকবার গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

একটি সাক্ষাৎকারে রায়ানের মা দাবি করেছেন, যখন তার ছেলের বয়স মাত্র তিন বছর, তখন এই ইউটিউব চ্যানেল করার আইডিয়া রায়ানই দিয়েছিল। এখন একটি ব্যাংক একাউন্টে টাকাগুলো রাখা হচ্ছে, রায়ান যখন প্রাপ্তবয়স্ক হবে তখন সে এখান থেকে ব্যবহার করতে পারবে।

রায়ানকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে ইউটিউবের তরুণতম সফল তারকা হিসেবে। তবে বর্তমানে রায়ান কিন্তু শুধু ইউটিউব থেকেই আয় করছে না, খেলনা প্রস্তুতকারী বিভিন্ন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান রায়ানের সাথে চুক্তি করছে। এর মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ আয় করছে আয়ান। রায়ানের এসব ভিডিও খেলনা বিক্রি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

মাজহারুল ইসলাম

মাজহারুল ইসলাম ক্যারিয়ার স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন দক্ষ ভিডিওগ্রাফার। ভিডিও এবং ইউটিউবিং এর উপরে পরীক্ষা দিয়ে ইউটিউব থেকে সার্টিফিকেট প্রাপ্ত এই এক্সপার্ট এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের তরুণদেরকে ভিডিও মেকিং এ আন্তর্জাতিকমানের করে গড়ে তোলা এবং ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং বা ইউটিউবিং এর মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ করে দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *